প্রকাশিত: Sun, Feb 26, 2023 8:29 AM আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 3:26 PM
আমাদের জীবন থেকে গল্পেরা সব হারিয়ে গেছে!
শামীম আহমেদ: মাসখানেক আগে হঠাৎ করে ইউটিউবে হুমায়ূন আহমেদের নাটক ‘নক্ষত্রের রাত’ দেখা শুরু করি। তিনদিনে দশ পর্ব দেখার পর আর দেখা হয়নি। আজ সন্ধ্যায় মাঝের দশ পর্ব বাদ দিয়ে একুশতম বা শেষপর্ব দেখলাম। নাটকটার প্রথম পর্ব প্রচারিত হয়েছিল ১৯৯৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ টেলিভিশনে। গত ২৮ বছরে আমাদের সমাজ-সংসার-সংস্কৃতির কতটা পরিবর্তন হয়েছে তার অসংখ্য ছোট বড় উদাহরণ চোখে পড়ল এই নাটকটি দেখতে গিয়ে। হুমায়ূন আহমেদ যেহেতু খুব সাধারণ জীবনযাপন নিয়ে গল্প লিখতেন, নাটক বানাতেন, তাই পরিবর্তনগুলো খেয়াল করা সহজ। সবচেয়ে বড় বিষয় যেটা চোখে পড়ল সেটা হচ্ছে নাটকের চরিত্রগুলোর মধ্যে গল্প করার বাসনা।
ভাই বোনের সঙ্গে গল্প করতে চায়, প্রেমিক প্রেমিকার সঙ্গে গল্প করতে চায়, স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে গল্প করতে চায়, বাবা মেয়ের সঙ্গে গল্প করতে চায়, মা ছেলের সঙ্গে গল্প করতে চায়, গ্রাম থেকে আসা আত্মীয় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে গল্প করতে চায়, এক ভিক্ষুক আরেক ভিক্ষুকের সঙ্গে গল্প করতে চায়, শিক্ষক ছাত্রের সঙ্গে গল্প করতে চায়, পতিতা খদ্দেরের সঙ্গে গল্প করতে চায়। মানুষে মানুষে গল্প করার যে বাসনা, যে সুতীব্র ইচ্ছা, যে সুখ -তা প্রকটভাবে ধরা পড়েছে নক্ষত্রের রাতে। পুরো নাটকে টেলিভিশন দেখার কোন দৃশ্য নেই, সময়ের বিবেচনায় স্বাভাবিকভাবেই কারও হাতে কোন মোবাইল ফোন নেই। কেবলই একজন মানুষের আরেকজনের মানুষের সঙ্গে গল্প করার গল্প। এখন কেউ কি আর কেউ কারও সঙ্গে ওভাবে গল্প করতে চায়? এখন সবাই দেখি ব্রেকফাস্ট করতে চায়। লাঞ্চ করতে চায়। ডিনার করতে চায়।
ট্রিট চায়। গিফট চায়। লং ড্রাইভ চায়। শর্ট ভ্যাকেসান চায়। মুভি নাইট চায়। ডেট নাইট চায়। হ্যাং আউট করতে চায়। রুম ডেট চায়। কিন্তু কেউ কারও সঙ্গে স্রেফ গল্প করতে আর চায় না। গত আঠাশ বছরে আমাদের জীবন থেকে গল্পেরা সব হারিয়ে গেছে। লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
আরও সংবাদ
চ্যাম্পিয়ন ভারত : একটা ছোট মুহূর্ত কতো বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে
‘ওই ক্যাচ হয়নি, সুরিয়াকুমারকে আবার ক্যাচ ধরতে হবে’!
কতো দেশ, কতোবার কাপ জিতলো, আমাদের ঘরে আর কাপ এলো না!
সংগীতাচার্য বড়ে গোলাম আলি খান, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও আমি
ইন্ডিয়ান বুদ্ধিজীবী, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ও দেশের বুদ্ধিজীবী-অ্যাক্টিভিস্ট
মতিউর প্রতিদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৮৩ ব্যাচের বন্ধুদের গ্রুপে সৎ জীবন যাপনের উপদেশ দিতেন!
চ্যাম্পিয়ন ভারত : একটা ছোট মুহূর্ত কতো বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে
‘ওই ক্যাচ হয়নি, সুরিয়াকুমারকে আবার ক্যাচ ধরতে হবে’!
কতো দেশ, কতোবার কাপ জিতলো, আমাদের ঘরে আর কাপ এলো না!
সংগীতাচার্য বড়ে গোলাম আলি খান, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও আমি
ইন্ডিয়ান বুদ্ধিজীবী, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ও দেশের বুদ্ধিজীবী-অ্যাক্টিভিস্ট